গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা করে যে নৃশংসতার সূচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবার সে তালিকায় যোগ হলো সিরিক শহরের একটি বিয়ে বাড়ি। শার্পনেলের আঘাতে প্রাণে রক্ষা পেলো না ৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৫ জন। জখম হলেন আমন্ত্রিত অতিথিসহ অন্তত ৭০ বেসামরিক নাগরিক। এ হামলাকে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ বলছে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর, অথচ এখনও নীরব আন্তর্জাতিক মহল।
যদিও এ রক্তপাত আর টলাতে পারছে ইরানের সাধারণ মানুষকে। বেছে বেছে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার এ প্রবণতাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা হিসেবেই দেখছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, তেহরানের সামরিক প্রতিরোধের সামনে টিকতে না পেরে এ গর্হিত যুদ্ধনীতি বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। সাধারণ মানুষ মেরে এ যুদ্ধ জিততে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের স্থানীয়রা জানান, বৈশ্বিক আধিপত্য হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এমন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
রোববারের হামলা-পাল্টা হামলার পর গত মঙ্গলবার রাতে বন্দর আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে আইআরজিসি’র ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে ওয়াশিংটন। এ অভিযানের মধ্যেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, এবার ইরান জবাব দিলে আরও তীব্রভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আঘাত হানবে ওয়াশিংটন।
যদিও তা আমলে নেয়নি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, সঙ্গে সঙ্গেই হামলা হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাটিতে। প্রশ্ন ওঠে তীব্র থেকে তীব্রতর হামলার হুমকি দিয়ে কী লাভ হচ্ছে ট্রাম্পের? কিংবা এটা কী ট্রাম্পের যুদ্ধজয়ের নতুন কোনো কৌশল?
আল জাজিরার বিশ্লেষণ, গত ফেব্রুয়ারি, জুন এবং সবশেষ আগস্টে দফায় দফায় যুদ্ধ কৌশলে বদল এনেছেন ট্রাম্প। শুরুতে পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান, এরপর বন্দর অবরোধ এবং সবশেষ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ। কিন্তু কোনোভাবেই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এবার ইরানে তীব্র থেকে তীব্রতর অভিযানের হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যা ইঙ্গিত করে এখনও কোনো যুদ্ধনীতিতেই সুবিধা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মত আপাতত দুই দেশই ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ নীতির দিকে এগোচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে না গেলেও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি আছে দুইপক্ষেরই।
এছাড়াও ভিন্ন এক কারণে টিকবে না ট্রাম্পের বল প্রয়োগ নীতি। সামরিক হামলা আগের চেয়ে জোরদার করলেও অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। আর, একবার পিছু হটলে, আবারও ইরানের প্রতিরোধের সামনে নত হতে হবে মার্কিন সেনাদের। তাই কিছুদিনের জন্য তীব্রতর হামলা চালানোর সক্ষমতা থাকলেও এ নীতি থেকে এক পর্যায়ে সরতেই হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে।





