সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোট; নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর আভাস

সৌদি যুবরাজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
সৌদি যুবরাজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | ছবি: আল জাজিরা
0

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবে চালিত একটি নিরাপত্তা কাঠামোর উত্থানে অবদান রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি চুক্তিটি তিন দেশের পরিপূরক শক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে বলেও মত বিশ্লেষকদের। তবে এটি রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না বলে কটাক্ষ ইরানের।

ইরান যুদ্ধের জেরে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে প্রায়ই সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে টার্গেট করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। এছাড়া সৌদি ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

সবমিলিয়ে যখন অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তখনই একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে সই করলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। গতকাল (শুক্রবার, ৭ আগস্ট) মক্কায় এতে স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

বিবৃতিতে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন রুখে দিতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা, সবার ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

চুক্তিতে তিন দেশ কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা দায়িত্ব নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নয় বরং সম্পূর্ণরূপে একটি প্রতিরক্ষামূলক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আওতায় তিন দেশে সামরিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন:

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন- কেন ও কোন প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা জোটে সম্মত হলো মধ্যপ্রাচ্যের তিন বিশ্বস্ত মার্কিন মিত্র; তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন জোট নিরাপত্তার বিষয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করার ক্রমবর্ধমান ইচ্ছাকে প্রদর্শন করে। পাশাপাশি এটি যৌথ শান্তির রোডম্যাপে তিনটি মুসলিম দেশকে একত্রিত করেছে বলেও মত বিশ্লেষকদের। চুক্তিটি তিন দেশের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে ও আঞ্চলিকভাবে চালিত একটি নিরাপত্তা কাঠামোর উত্থানে অবদান রাখতে পারে।

এছাড়া চুক্তিটি তিন দেশের পরিপূরক শক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা সামরিক শক্তির দিক থেকে তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম। আর মুসলিম দেশের মধ্যে একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধারী পাকিস্তান। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রয়েছে অঢেল অর্থ।

তবে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ধারণা একেবারে নতুন নয়। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারে ইসরাইলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব-পাকিস্তান। শুক্রবারের চুক্তিটি আগের চুক্তিরই সম্প্রসারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে নতুন চুক্তি কতটুকু কার্যকরী কিংবা এটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে ইসরাইল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। কেননা গাজা গণহত্যার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় ইসরাইলের চক্ষুশূল তুরস্ক-পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলকে পরবর্তী টার্গেটে পরিণত করার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তেল-আবিব। এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে যে পরমাণু চুক্তি সই হয়েছিল, তাও ভেস্তে যায় রিয়াদের ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নে।

আর যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের দাবি, বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা যেমন রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে নি; একইভাবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন চুক্তিও কার্যকর হবে না।

এসএস