ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে মধ্যস্থতায় চীন; শি-ট্রাম্প বৈঠকেও পড়বে প্রভাব

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা
চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে বেইজিংকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখছে তেহরান। যা শি জিনপিং-ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকেও প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে এগিয়ে এসেছে চীন। অনেক বিশ্লেষকের মতো, পাকিস্তানকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে এই মধ্যস্থতা চালাচ্ছে বেইজিং। আরেকদল বলছেন, দেশটিকে সঙ্গে নিয়েই যৌথ শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে তৎপর চীন।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব কিছুটা কমেছে। গত জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ চুক্তির মেয়াদ শেষে সরাসরি আলোচনায় স্থবিরতা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে বেইজিংকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখছে তেহরান।

গত প্রায় এক দশক ইরানের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। একইসঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় প্রায় সব দেশের সঙ্গেই রয়েছে চীনের গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক। চীনের বৈশ্বিক এ প্রভাবকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতে কাজে লাগাতে চায় ইরান।

প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে কি এই মধ্যস্থতা চালাচ্ছে বেইজিং?

চীন নিজেকে সরাসরি একক মধ্যস্থতাকারী ঘোষণা করেনি। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের ইসলামাবাদ চুক্তিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ চীন পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে নয় বরং পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে একটি বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে এগিয়ে এসেছে চীন। ইউক্রেন সংঘাত বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে চীন প্রমাণ করতে চায়, বিশ্বমঞ্চে একটি দায়িত্বশীল পরাশক্তি তারা। এখানে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে।

আরেকদল বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ মেগা প্রকল্পের সাফল্যের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। এ অঞ্চলের সংঘাত চীনের ট্রানজিট রুট ও শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগকে ঝুঁকিতে ফেলবে।

এছাড়া চীনের মোট আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চরম রূপ নিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বিশেষ করে এশিয়ান জ্বালানি বাজার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংকট নিরসনে অতীতেও চীন কূটনৈতিক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব-ইরানের মধ্যে চুক্তি সই হয়। শেষ হয় দীর্ঘ সাত বছর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দুই পরাশক্তির বৈরিতা। দুই দেশে ফের দূতাবাস চালু হয়। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি-হুতি সংঘাতের তীব্রতা অনেকাংশে কমে। সাময়িকভাবে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পারদ অনেকাংশেই কমে।

এই যখন অবস্থা তখন, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে মার্কিন প্রভাকে দুর্বল করতে বেইজিংয়ের ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ’ এগিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া দ্বিমুখী।

একদিকে তারা চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে চীনের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রতিহত করছে।

এসএস