১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি সংঘাতে জড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে বৃহস্পতিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর জেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়লো ১৭ জুন স্বাক্ষর হওয়ার সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ।
ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর অনুযায়ী, ১৭ জুন পরবর্তী ৬০ দিন কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে ইরান। পাশাপাশি যুদ্ধবন্ধে স্থায়ী একটি শান্তি চুক্তি করবে দু’পক্ষ। এছাড়া এই স্মারকে লেবাননে হামলা বন্ধের শর্ত ছিল, যা ইসরাইল মানছে বলে গেল সপ্তাহ থেকে অভিযোগ করে আসছে তেহরান।
হরমুজে পতাকাবাহী জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। যদিও তেহরানকে সরাসরি টার্গেট করে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা, এই হামলা ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন:
এখন প্রশ্ন ওঠে, হরমুজে জাহাজ চলাচল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সবশেষ এই দ্বন্দ্ব কিসের আভাস দিচ্ছে? ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলছেন, সমঝোতার পরেও সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার অর্থ খুব তাড়াতাড়ি শেষ হচ্ছে না ওয়াশিংটন-তেহরান বৈরিতা। বরং স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ব্যর্থ হবে বলেও ইঙ্গিত করছে নীল শিবির। রিপাবলিকান বিরোধীরা আরও দাবি করছেন, ভিয়েতনামের যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি পদে পদে মার খাচ্ছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ, হরমুজ নিয়ে দ্বন্দ্বের মূল কারণ সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্টতা। দেড় পৃষ্ঠার ওই নথিতে পরিষ্কার করে বলা হয়নি হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে কারা। প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে আইআরজিসি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে- এই শর্তেই হরমুজ সচল করতে শুরু করে তেহরান। যা ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবার ইরানকে চটিয়ে হরমুজে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। যা ইঙ্গিত করে, সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ ইস্যুতে অস্পষ্টতা ছিল শুরু থেকেই।
পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজে আবারও আটকা পড়লো শতশত বাণিজ্যিক জাহাজ। এতে চাপে পড়বে ওয়াশিংটন। আবার এই সংকটের সমাধান কূটনৈতিকভাবেই হতে হবে এমন পরামর্শ দিচ্ছে ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল। একই ইঙ্গিত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।
যদিও বৃহস্পতিবারের এই হামলার পর আলোচনায় আর আস্থা রাখছে না আইআরজিসি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে সমঝোতার ক্ষেত্রে এই হরমুজ প্রণালিই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিশ্লেষকরাও বলছেন, ট্রাম্প যতই বল প্রয়োগের চেষ্টা করুক হরমুজের নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে ইরান।




 Minister Li Yunze-320x167.webp)