ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বড় সংঘাতের মুখে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার। তবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই ইরানের।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও, কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক উপস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসে দু’পক্ষ।
আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন হয়েছে বলে দাবি করেন ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কোনো চুক্তি বা সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি। আগামী সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আবারও আলোচনা বসতে যাচ্ছেন মার্কিন ও তেহরান কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন:
আলোচনাকে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে বিরোধ রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দাবিগুলো স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরানের প্রত্যাশা এসব নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। পরমাণু ইস্যাতেও আলোচনা চলমান চলমান থাকবে। সমাধানে পথ খুঁজছে ইরান।’
তবে বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আলোচনা চুক্তিতে পৌঁছাতে সব পক্ষের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা একটি ভালো লক্ষণ। তবে বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কাও আছে, আলোচনা দীর্ঘায়িত করে হামলার জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।





