টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে টক অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড ইরান-ইসরাইল সংঘাত। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর-থেকে দক্ষিণ, বিশ্ব নেতাদের কণ্ঠে সংঘাত নিরসনের আহ্বান। যদিও এক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান বিপরীত মেরুতে।
যুদ্ধ জয়ের পথ ইসরাইল। তাই নেতানিয়াহু প্রশাসনকে হামলা থামানোর অনুরোধ করা কঠিন হবে। নিউ জার্সিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এমনটাই জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের এমন মন্তব্য ভুল। তবে তেহরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসের সক্ষমতা তেল আবিবের নেই বলেও জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এখন ইসরাইলকে অনুরোধ করা কঠিন। কারণ যখন কোনো পক্ষ জয়ের পথে থাকে, তাদের অনুরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরেও আমি চেষ্টা করছি। ইরানিদের সঙ্গেও কথা বলছি। দেখা যাক কী হয়।’
ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির আলোচনা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়াবে কী না, তার জন্য ইরানকে বেঁধে দেয়া দুই সপ্তাহ সময়কে যথেষ্ট ও সর্বোচ্চ বলে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সংঘাত নিরসনে ইউরোপ সাহায্য করতে পারবে না বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা রয়েছে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রে ইসরাইল হামলা চালাবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দেশটির শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে মস্কো সমর্থন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন তেহরানকে ছেড়ে যায়নি মস্কো।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘দেখুন আমাদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠছে। তবে আমরা ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়ে আসছি। শুধু কাজে নয়, কথার মাধ্যমেও। আমরা এখনো বুশেহর থেকে রুশ কর্মীদের ফিরিয়ে আনিনি।’
নজিরবিহীন এই সংঘাতে প্রতিনিয়তই প্রাণ হারাচ্ছেন দুই দেশের নাগরিক। যার সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। সংঘাত নিরসনে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে দুইপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কিংবা অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে হবে। কোনোভাবেই এই হামলা সমর্থনযোগ্য নয়। একে ন্যায্যতা দেয়া উচিত নয়। সংঘাত নিরসনে কূটনীতির পথ বেছে নেয়া জরুরি। এজন্য আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে।’
এদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধানের দাবি, ওয়ারহেড তৈরির জন্য ইরানের কাছে পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে। তবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য দেশটির পরিকল্পনার কোনো প্রমাণ পায়নি সংস্থাটি।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেন, ‘ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে, এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তাদের কোনো পরিকল্পনার তথ্যও আমরা পাইনি। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু সেটি ভিন্ন বিষয়।’
গাজায় গণহত্যা ও ইরানে ইসরাইলের আগ্রাসন দ্রুতই এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ওআইসির ইয়ুথ ফোরামে যোগ দিয়ে এমন দাবি করেন এরদোয়ান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশকে সুরক্ষিত করতে বাড়ানো হবে মধ্যপাল্লা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন।
এদিকে ইরানে ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে আরবলীগ। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।





 founder Abhijeet Dipke-320x167.webp)