ত্রাণ ও উদ্ধারের চিত্র
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কলম্বিয়ার অভিজ্ঞতা কম নয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রথমে পৌঁছান দমকল কর্মীরা। এরপর যোগ দেন সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা ও অন্যান্য জরুরি সেবাদাতা দল। রাজধানী বোগোতাসহ অন্যান্য শহরে সংগৃহীত মানবিক ত্রাণ বিমানে করে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কালি, পেরেইরাসহ বিভিন্ন শহরে ভারী যন্ত্রপাতি, ক্রেন ও এক্সক্যাভেটর দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। তবে অপেক্ষাকৃত ছোট ও প্রত্যন্ত শহরগুলোর বাসিন্দারা এখনো হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। বহু জনপদে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক সেবা এখনো বিচ্ছিন্ন। মঙ্গলবার সরকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি রিসারালদার পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাড়ায় ভর্তুকি এবং তিন মাস পর্যন্ত ইউটিলিটি বিল স্থগিতের ব্যবস্থা।
ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা
বামপন্থি বিদায়ী প্রশাসন গুস্তাভো পেত্রো থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যর্থতাও ত্রাণ কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। যথাযথ হস্তান্তর না হওয়ায় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট এক ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে। আগের সরকারের একজন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এখন নতুন দলের সঙ্গে কাজ করছেন।
সরকারের সামনে এখন বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনগুলোর একটির পর দেশটিতে যে গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই দুই ভিন্ন সরকারের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করছে এই দুর্যোগ। সরকার জানিয়েছে, দুর্যোগ সংস্থা এখন থেকে হালনাগাদ তথ্যের আনুষ্ঠানিক উৎস হবে না। বরং নির্বাহী বিভাগ এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ই মৃতের সরকারি সংখ্যাসহ সব তথ্য দেয়ার একমাত্র দায়িত্বে থাকবে। ফলে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষসহ সাংবাদিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খণ্ডখণ্ড তথ্য জোগাড় করতে হচ্ছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভয়াবহ চিত্র
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল চোকোর কাছাকাছি এলাকার কিছু জনপদ কলম্বিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র জেলাগুলোর একটি। সেখানকার ঘন রেইনফরেস্টে বসবাসকারী এই সম্প্রদায়গুলোতে যথাযথ সড়ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও সশস্ত্র সংঘাতে ভুগে আসছে তারা। এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ভীষণভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জরুরি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের কারণে ছয়টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে এবং ভূমিধসে ডজন ডজন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালিতে একটি বড় হাসপাতালের কয়েকটি তলা ধসে পড়ায় সেখানকার প্রায় ৬০০ রোগীকে অস্থায়ী তাঁবুতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অনেক চিকিৎসাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘দৃঢ় নেতৃত্ব ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হাত’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্টের জন্য এই ভূমিকম্প একটি তাৎক্ষণিক ও অপ্রত্যাশিত পরীক্ষা। তিনি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেন এবং জরুরি অবস্থায় কলম্বিয়ার গভীরভাবে বিভাজিত রাজনৈতিক মহল একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, তার ওপরই সদ্য শুরু হওয়া এই প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।





