পশ্চিমতীরের রামাল্লার ওফার প্রিজন সেন্টারের বাইরের দৃশ্য এটি। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে অপেক্ষায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের স্বজনরা। চুক্তি অনুযায়ী যে ৬২০ বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছিল ইসরাইল, তার মধ্যে ৪০ জনকে হস্তান্তরের কথা ছিল পশ্চিমতীরে। কিন্তু এই হতভাগ্য বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা তখনও জানতেন না, শেষ মুহূর্তে বন্দি বিনিময় স্থগিত করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনি বন্দির একজন স্বজন বলেন, 'খুব ভোরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। সবাইকে স্বাগত জানাতে চাই। কিন্তু এত দেরি হচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না।'
স্থানীয় একজন বলেন, 'অনেক নারীই তার সন্তানকে নিয়ে সেই সকাল ৭টা থেকে বসে আছেন। এমন তীব্র শীত আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এখানে এসেছেন।'
শনিবার অনেক জল্পনার পর, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, হামাসের পক্ষ থেকে পরবর্তী ধাপে জিম্মিদের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়া না হলে শর্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছাড়বে না ইসরাইল। এছাড়া জিম্মিদের মুক্তি দেয়ার আগে যে ধরনের অসম্মানজনক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হামাস- সেটাও বন্ধ করতে হবে বলে জানায় প্রধানমন্ত্রীর অফিস।
আল জাজিরার তথ্য বলছে, এদিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের সাথে বৈঠকের পর কেবিনেট সদস্যদের সাথেও আলোচনায় বসেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তারপরই আসে এমন সিদ্ধান্ত। ইসরাইলের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। তবে, এবার তারা সহ্যের সব সীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে শনিবার শর্ত অনুযায়ী ছয় জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় আটক ছিলেন তারা। তবে অস্ত্রবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না দেশটির জনগণ। নেতানিয়াহুর কারণে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন তেল আবিবের এই বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় একজন বলেন, 'খুবই বাজে সিদ্ধান্ত। কেন একবারে সব জিম্মিদের দেশ ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না? আমরা তো চড়া মূল্য দিয়েই যাচ্ছি।'
অন্য একজন স্থানীয় বলেন, 'আমরা হতাশ। সবাইকে একদিনে ফেরত আনতে হবে। প্রতি শনিবার তিন জন, চার জন করে মুক্তি দেয়ার কোনো মানে নেই। যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে শঙ্কিত।'
এমন বাস্তবতায় গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ আদৌ কার্যকর হবে কি না এ নিয়ে সংশয় ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে সবশেষ মুক্তি পাওয়া ছয় জিম্মির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, 'গেল ২৪ ঘণ্টায় অনেক রকম খবর আসছে। জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখান যা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। একজন জিম্মিরও শারীরিক অবস্থা ভালো না। যদিও এরচেয়ে খারাপ অবস্থায় তাদের রাখা হয়েছিল। কী বীভৎস সেই দৃশ্য!'
মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমগুলো বলছে, শেষ মুহূর্তে নানা অভিযোগ তুলে বন্দি-বিনিময় আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত আসায় নতুন সংকটে পড়তে যাচ্ছে হামাস। কারণ ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে গাজায় থমকে যাবে ত্রাণ সরবরাহ, আটকে যাবে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনাও। আর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে সমঝোতা আলোচনায় এক তরফা আধিপত্য দেখানোর সুযোগ পাবে নেতানিয়াহু প্রশাসন।