নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিরিয়ায় ধারাবাহিক হামলা ইসরাইলের!

মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

তাহরির আল শামের মতো উগ্রপন্থি সংগঠনের হাতে কোনোভাবেই যেন মারাত্মক অস্ত্র না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই সিরিয়ায় একের পর এক হামলা করছে ইসরাইল। যদিও তেল আবিবের এমন দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের যোগসাজশ রয়েছে এমন কোনো প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইসরাইলের জন্য আর নিরাপদ নয়। এই মুহূর্তে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তেল আবিব সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে বলেও মত তাদের। বিশ্লেষকদের দাবি, সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

গেল দুই দিনে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রাগার, সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার, বিমানবন্দর, গবেষণা কেন্দ্রের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ৪০০ এর বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। রাতারাতি সিরিয়ার নৌঘাঁটি ধ্বংসের দাবি করে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করতে দেখা গেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে। জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে ইসরাইল-সিরিয়া বাফার জোনেও অভিযান চালায় নেতানিয়াহু বাহিনী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, স্মরণকালের সবচেয়ে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দামেস্ক-তেল আবিব।

৫৩ বছর পর সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসনামলের অবসান ও বাসার আল আসাদের পতনের পেছনে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরানের সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ইসরাইলের সাথে সংঘাতে জড়ানোর পর নেতৃত্ব আর লোকবল হারিয়ে কিছুটা অস্তিত্ব সংকটেও পড়েছে তেহরান। যদিও এসব আলোচনা পেছনে ফেলে বারবার প্রশ্ন উঠছে সিরিয়ার ওপর ইসরাইল এভাবে চড়াও হওয়ার কারণ কী।

সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত বাহিনীর ঘাঁটি ধ্বংসের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর দেশটিতে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। যদিও তেল আবিবের এই অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান বলছে, সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত কোনো বাহিনীর ঘাঁটি নেই। আসাদ বিদ্রোহীরা যখন সিরিয়ায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিচ্ছে তখন তেল আবিবের দাবি, কোনো উগ্রপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে সিরীয় সেনাদের অস্ত্র পৌঁছালে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ায় চলমান অস্থিরতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসরাইল তার নিরাপত্তার জন্যেই অস্ত্রাগার ও সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের ধারণা, যে কোনো মূল্যে সিরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে একেবারে ব্যাকফুটে চলে যাবে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য নিয়েও তখন কূটনৈতিক চাল চালতে পারবে তেল আবিব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, 'ইসরাইল সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। ৫০ বছর পর সিরিয়ায় যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। মনে রাখতে হবে, ইসরাইলের জন্য সিরিয়া সবসময়ই মারাত্মক প্রতিপক্ষ ছিল।'

যদিও আত্মরক্ষা ছাড়া সিরিয়ার হামলা চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ দেখাতে পারছে না তেল আবিব। নেতানিয়াহু প্রশাসনের সাথে ভিন্নমত পোষণ করছেন বিরোধীদল ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির নেতা বেনি গ্যান্টজ। নীতি নির্ধারকদের প্রতি তার পরামর্শ, ড্রুজ ও কুর্দিশের মতো সংগঠনের সাথে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারলে তা তেল আবিবের জন্য বাড়তি অর্জন হিসেবে গণ্য হবে। আল জাজিরার তথ্য বলছে, আরব ও ইরান সমর্থিত এই সংগঠন ঐতিহাসিকভাবেই আসাদ বিরোধী সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ছিল।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইসরাইল সিরিয়ায় যে হামলা চালাচ্ছে সেখানে পশ্চিমাদেরও মদদ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে ইসরাইল যখন তাণ্ডব চালায়, পশ্চিমা দেশগুলো বারবারই ইসরাইলের আত্মরক্ষার দোহাই দেয়। তাহরির আল শামের মতো আসাদ বিরোধী সংগঠন যদি সিরীয় সেনা সরঞ্জাম ও রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডারের দখল নেয়, তা পশ্চিমাদের জন্যেও যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে, আবারও ইসরাইলের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পশ্চিমারা নিজেদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায়, এই আলোচনাও উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই।

এসএস

BREAKING
NEWS
2