মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরই, আজ (বুধবার, ২০ মে) বিএসএফকে প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দেয়া হলো।
এদিন রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্ন সংবাদ সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘এই দিনটা খুবই অর্থবহ। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিএসএফের তরফে রাজ্যকে জানানো হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয় জমি তুলে দিতে, কিন্তু আগের সরকার সেই সহযোগিতা করেনি। ফলে রাজ্য ও দেশের সুরক্ষা এক বড় সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছিল। এমতাবস্থায় আমরা ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিলাম।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার হাজারের কিলোমিটারের কিছু বেশি সীমান্ত রয়েছে, এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে ২২০০ কিলোমিটার সীমান্ত। এর মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, আনুমানিক ৬০০ কিলোমিটার এখনো অরক্ষিত সীমান্ত রয়েছে, এর মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে যেখানে রাজ্য সরকার চাইলে জমি দিতে পারতো, কিন্তু বিগত সরকার তা দেয়নি।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক হওয়ার প্রয়োজন ছিল কিন্তু তা হয়নি আমরা এসে সেটা করেছি। এবার থেকে প্রতিনিয়ত সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক হবে।’
এই বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার সচিব বন্দনা যাদব, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা প্রমুখ।
অন্যদিকে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার, বিএসএফ এডিজি (পূর্বাঞ্চল) সুমিত সরণ, বিএসএফের আইজি (উত্তরবঙ্গ) মুকেশ ত্যাগী, বিএসএফের আইজি (দক্ষিণবঙ্গ) দলজিৎ সিং, বিএসএফের ডিআইজি (পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অপারেশন) ম্যাথু ভার্গিস প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দার্জিলিং জেলার জেলাশাসকরা ও পুলিশ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।
বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার বলেন, ‘খুব শিগগিরই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হবে, নতুন সীমান্ত চৌকি স্থাপন করা হবে, বিশেষ করে সুন্দরবন জেলায়। দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এরমধ্যেই চোরাকারবারিদের একটি নামের তালিকা সরকারের কাছে জমা দিয়েছি তাদেরকে ধরা হবে। আমরা বিশ্বাস করি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে।’
এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার এক দিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্য দিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা কার্যকর করলাম।’
একটি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) অনুযায়ী, সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আসেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা এ রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুলিশ কোনো হেনস্থা করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ আটক করবে, গ্রেপ্তার করবে এবং বিএসএফর হাতে তুলে দেবে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট করবে। রাজ্যের স্বার্থে দেশের স্বার্থে আজ থেকে এই আইন কার্যকর করলাম।’
এব্যাপারে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




