চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশ ‘বহুমেরু বিশ্ব’ এবং ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ৪৭ পৃষ্ঠার একটি নীতিপত্রে একমত হয়েছে। বহুমেরু বিশ্ব বলতে এমন একটি কাঠামো বোঝানো হয়, যেখানে কেবল একটি শক্তির পরিবর্তে একাধিক দেশ অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে। শি ও পুতিন দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘একধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য’-এর সমালোচনা করে আসছেন।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে। দুই দেশ অর্থনীতি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসে তা ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি ডলারনির্ভরতা কমিয়ে লেনদেন বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রায় সব আমদানি-রপ্তানি এখন রুবল ও ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া চীনের প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি খাতেও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে মস্কো। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্পের রুট ও নির্মাণ নিয়ে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার রুশ গ্যাস মঙ্গোলিয়ার মাধ্যমে চীনে সরবরাহ করা হবে। ইউরোপীয় বাজার কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চীন এখন রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির প্রধান ভরসা।
এছাড়া দুই দেশ ‘শিক্ষা বর্ষ’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরদার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতার বার্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প এক শক্তির অক্ষ গড়ে তোলার রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।





