আজ (বুধবার, ২০ মে) বিকেলে পৌরশহরের ধানমহাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকেরা বাজারে ৪২ কেজি ধান বিক্রি করলেও দাম পেতেন ৪০ কেজি বা এক মণ হিসেবে। এতে করে অতিরিক্ত দুই কেজি বেশি ধানের দামি পেতেন না কৃষকরা। ফলে ফলে ঝড় বৃষ্টি ও রোদে ঘামে পড়ে অর্জিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন সীমান্তবর্তী এ উপজেলা হাজারো কৃষক।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন ধানমহল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শ্রীদাম প্রসাদ, ঝুটন সাহা, দেবল দে, প্রবীর সাহাসহ চার ধান ব্যবসায়ীর ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে প্রশাসন।
এদিকে অভিযানের সময় ধান কেনাবেচা বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ কৃষকেরা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় কৃষক রহিত মিয়া বলেন, ‘ধান নিয়ে আসছি ৪০ টাকা মণে ভাড়া দিয়ে। এখন ফেরত নিয়ে গেলে আবারও ৪০ টাকা খরচ হবে। বাজারে এসে ৪২ কেজি ধান দিয়ে ৪০ কেজির দাম পাই, এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি এবং চার ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাবেই। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আমরা বসবো, যেন কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পান। ভবিষ্যতেও আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
উল্লেখ্য, নেত্রকোনা এক (দুর্গাপুর কলমাকান্দা) আসলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিয়তই ৪২ কেজিতে মণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন প্রোগ্রাম সেমিনার বক্তব্য দিতে গিয়েও তিনি বারবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছেন।




