যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর জবাবে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইবি গতকাল (বুধবার, ১৫ জুলাই) বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় এসব আঘাতের ফলে কুয়েতি সামরিক সদস্যরা আহত হয়েছেন। এর ফলে অঞ্চলটি আরও বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হতে পারে। আল-বুদাইবি অভিযোগ করেন, ইরান আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। গত কয়েক দিনে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও মূল ভূখণ্ডের বেশ কিছু শহরে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে আহভাজ, বাম্পুর, বন্দর আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, ইসফাহান, জাস্ক, খোন্দাব, কোনারাক, কেশম ও সিরিক। এ ছাড়া মে ও জুন মাসেও বন্দর আব্বাস ও বন্দর-ই-লেঙ্গাহসহ বেশ কিছু এলাকায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহেদি ইয়াজদি বলেন, ইরানের একমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালি। তিনি বলেন, ‘আলোচনা বা অন্য কোনো কারণে ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তারা শুধু একটি দর-কষাকষির হাতিয়ারই হারাবে না, বরং অনেক ইস্যুই তেহরানের হাতছাড়া হয়ে যাবে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ আঞ্চলিক দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা চালাবে, ততক্ষণ ইরানও ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হলেও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ছিল। পোর্টওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২৪টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করেছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে মার্কিন অবরোধের মুখে এই নৌপথ আবারও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সহায়তায় বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এটি হলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি করিডোরটিও ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশ এবং এশিয়া থেকে ইউরোপে রপ্তানির একটি বিশাল অংশ বাধাগ্রস্ত হবে।





