মামলায় অ্যাপল দাবি করেছে, নিজেদের ইলেকট্রনিক হার্ডওয়্যার তৈরির পথ প্রশস্ত করতে ওপেনএআই সুপরিকল্পিতভাবে আইফোন নির্মাতার ব্যবসায়িক গোপনীয়তা হাতিয়ে নিয়েছে। ৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগে অ্যাপল বলেছে, টেকনিক্যাল স্টাফ থেকে শুরু করে চিফ হার্ডওয়্যার অফিসার পর্যন্ত সব পর্যায়ে ওপেনএআই অ্যাপলের বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ও গোপন তথ্য চুরি করেছে।
২০২৪ সালে অ্যাপলের পণ্যে চ্যাটজিপিটি যুক্ত করার মাধ্যমে এই দুই প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব শুরু হলেও বর্তমানে তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাস থেকেই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। অ্যাপলের দাবি, ওপেনএআই তাদের প্রায় ৪০০ সাবেক কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে অপ্রকাশিত প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে।
এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে অ্যাপল বলেছে, ‘ওপেনএআইয়ে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তি আমাদের অপ্রকাশিত প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ও পণ্যের গোপন তথ্য ভুলভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা সব সময় আমাদের দলের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্ভাবন রক্ষা করব।’
আরও পড়ুন:
পাল্টা জবাবে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্যের প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। আমরা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরির দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
এই মামলায় ওপেনএআই ছাড়াও এর হার্ডওয়্যার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইও প্রোডাক্টস’ এবং অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মকর্তা ট্যাং ইউ তান ও প্রকৌশলী চ্যাং লিউকে আসামি করা হয়েছে। ট্যাং ইউ তান বর্তমানে ওপেনএআইয়ের চিফ হার্ডওয়্যার অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত। অ্যাপলের অভিযোগ, তান চাকরির ইন্টারভিউ নেয়ার সময় অ্যাপলের বিভিন্ন প্রজেক্টের কোড নেম ব্যবহার করে প্রার্থীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য জানার চেষ্টা করতেন। এমনকি প্রার্থীদের ব্যাটারি বা সার্কিট বোর্ডের মতো হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ ইন্টারভিউতে নিয়ে আসার নির্দেশ দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এই আইনি লড়াই ওপেনএআইয়ের বহুল প্রতীক্ষিত আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আনার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার।





