বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি; নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশংকা

বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি
বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি | ছবি: সংগৃহীত
0

রাঙামাটিতে গেল শনিবার বিকেল থেকে টানা ৯ দিনের বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিবর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কার মাঝেই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষ। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যেই জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পর বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার ৯ উপজেলা ও ২ পৌর এলাকায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৪২২ জন আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন।

তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫০৬ জন রয়েছেন। জেলার ৭ উপজেলায় ছোটবড় ১৩১টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সেতু ধসে দুইদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক। এছাড়া তিন কিলো নামক স্থানে সড়ক ধসে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে চারদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নতুন করে ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী উপজেলা বরকলের নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখান চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১শ ৮২ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া গেল বৃহস্পতিবার থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় ৬ হাজার মানুষ আকস্মিক প্লাবনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। এরমধ্যে ফারুয়া বাজারের দেড় শতাধিক দোকান ডুবে গেছে। তবে সেখানে চারদিনেও কোন সরকারি সহায়তা পোঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।

তবে পাহাড় ধসের শংকা ও বন্যা পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও দুর্গতদের বেশিরভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি, সহায় সম্পদ, গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর, মাছের ঘের ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা খাবার, শিশুখাদ্য, ঔষধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসন থেকে যথেষ্ট ত্রাণ সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে।

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটি শহরসহ নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। আজ রবিবার বিকাল চারটা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৯৮ দশমিক সাত পাঁচ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিমাপক ‘রুলকার্ভ’ অনুযায়ী পানি থাকার কথা ৮৫ দশমিক সাত ছয় ফুট এমএসএল। অর্থাৎ হ্রদে ১২ দশমিক শুন্য চার ফুট পানি বেশি রয়েছে।

এএইচ