সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন শনিবার রাত ও রোববার সকালে তাদের নাগরিকদের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোরে তারা তাদের ভূখণ্ডে হওয়া হামলার জবাব দিয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটিতে পড়েছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বাহরাইনে রোববার সকালে তিনবার সতর্কসংকেত বাজানো হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার সাইটে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটির কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার এবং ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা। কাতারের একটি ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবিও করেছে ইরান, যদিও কাতার সরকার জানিয়েছে সব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। ওমানের দুকুম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর একটি জ্বালানি প্ল্যাটফর্মেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।
এর আগে রোববার ভোরে ইরানে প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। ভারত জানিয়েছে, আক্রান্ত হওয়া এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। গত জুনে সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর প্রণালিটি আংশিক খুলে দেয়া হয়েছিল। ইরান বলছে, আক্রান্ত কন্টেইনার জাহাজটি অননুমোদিত রুট ব্যবহার করছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।





