১১ বছর ধরে ব্যাকপেইনে ভুগছিলেন একটি বেসরকারি বাইং হাউজের কর্মী মোহাম্মাদ শুভ। ছয় মাস আগে হটাৎ নানা জটিলতায় যেতে হয় বড় অপারেশনে, পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন হাঁটার ক্ষমতা।
এরপর বিএমইউ সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতালের রোবটিক ফিজিও থেরাপি সেন্টারে কয়েকমাসের দীর্ঘ চেষ্টায় কিছুটা শক্তি পেয়েছেন হাঁটাচলার।
মোহাম্মাদ শুভ বলেন, ‘গ্রাজুয়ালি ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে। খুবই ধীরে প্রসেসিং হচ্ছে। আমি ওটি না করলে হয়তো আমার ডাউন পোর্শন প্যারালাইসিসের দিকে চলে যেতে পারতো। সেখান থেকে আমি ব্যাক করে এসেছি আলহামদুলিল্লাহ। বর্তমানে অনেক ভালো আছি।’
পাশের কক্ষে ৪২ বছরের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, তিন বছর আগে স্ট্রোকের পর ব্রেইনে বড় সার্জারি শেষে কর্মক্ষমতা হারায় শরীরের ডান পাশ। ভারত ও সিঙ্গাপুরে বড় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কোনো উন্নতি না হওয়ায় এসেছেন এই সেন্টারে। এ আই নিয়ন্ত্রিত এ যন্ত্রেই যেন নতুন করে হাঁটা শিখছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পায়ের স্টেপ কিভাবে দিতে হবে, এটি স্ট্রোক করার পরে আমরা ভুলে যাই। এইটি এখন নতুন করে আবার বারবার করার কারণে, এইটা আমার ব্রেন নতুন করে আমাকে দেখাচ্ছে যে কীভাবে হাঁটতে হবে।’
প্রতিদিন এখানে ত্রিশ থেকে ৩৫ জন রোগী নানা ধরণের থেরাপি নিয়ে থাকেন। রোগীর ধরণ ও সক্ষমতা অনুযায়ী অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে নিজেদের সক্ষম করে তোলেন রোগীরা।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের আগস্টে চীন সরকারের কাছ থেকে আসে ৫৭টি অত্যাধুনিক রোবট, যা দিয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে চলতি বছর মার্চ থেকে চালু হয়েছে রোগীদের সেবা।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের বিএমইউ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল বলেন, ‘আমার এক রোগীর বাম পায়ে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের কিন্তু মেশিন রিড দিচ্ছে যে তার বাম পায়ে কতটুকু প্রবলেম হচ্ছে। পাওয়ার যখন আমরা বাড়িয়ে দেব তখন এই বাম পায়ের উইকনেসটা তখন আবার উনি ফিল করবে যে, না উনি বেটার ফিল করছেন। তখন এইটা হয় কি, আমরা এইটাকে বায়োফিডব্যাক বলি। এই বায়োফিডব্যাকের মধ্যে তার সেলফ কনফিডেন্স, তার নার্ভ এটাকে রিগেইন করে—সবকিছুর মাধ্যমেই সে আবার আগের পর্যায়ে আসতে থাকে।’
এ সেন্টারে রক্তক্ষরণ, পক্ষাঘাত গ্রস্ত, স্নায়ুবিক অক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা, বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের বিএমইউ সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ বলেন, ‘তো জিরো থেকে মাসেল গ্রেডিং ফাইভ পর্যন্ত যে সমস্ত উইকনেস আছে, যেমন স্ট্রোকের, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, তাদেরকে মূলত এইটাতে ট্রেনিং দেয়া হয় এবং তারা বিভিন্ন সেশনে, বিভিন্ন একটা ডিউরেশন রাখা হয়। মাল্টিপল সেশন প্রয়োজন হয় এবং প্রত্যেকটা সেশনের পরপর তাকে ইভ্যালুয়েশন করা হয়।’
এসব থেরাপি মেশিনে কোনো রোগীর ঠিক কি পরিমাণ পেশি দুর্বল হয়েছে তা নির্ণয় করা হয়, এর পর সে অনুযায়ী পরিমিত থেরাপির মাধ্যমে সক্রিয় করে তোলা হয় ওই অঙ্গ।





