যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কে টানাপোড়েন!

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প
নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কি আগের মতো আছে, নাকি চিড় ধরেছে? বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ও লেবানন যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যখন টানাপোড়েন চরমে, তখন কেউ কেউ জল্পনা করছেন ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় নেই। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রশাসনেরও বিরাগভাজন হয়েছে ইসরাইল। তবে কি নিজস্বার্থে ইসরাইলকে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও নেতানিয়াহুর দাবি ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতোই অটুট রয়েছে।

ইসরাইলের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। অথচ তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইল ইস্যুর প্রতি ওয়াশিংটনের নীতি পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছেন— এমনটাও বলছেন অনেকে।

শুধু তাই নয়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেও রয়েছেন চরম রাজনৈতিক সঙ্কটে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। আর তা প্রমাণ হলে রয়েছে কারাবাসের ঝুঁকি। আবার চলতি বছর শেষে সাধারণ নির্বাচনেও নেতানিয়াহু হেরে যাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু। কেননা ইসরাইলি জনগণের একটি বড় অংশ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। বিপরীতে, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে একটি চুক্তি চায়, যেখানে লেবানন যুদ্ধ বন্ধ করাকে শর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ক্রমশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে মার্কিন জনমত। এমনকি ট্রাম্পের ‘মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের মধ্যেও সংশয় দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্জোরি টেইলর গ্রিন এবং সাবেক ফক্স টিভি উপস্থাপক টাকার কার্লসন—দুজনেই ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে প্ররোচিত করেছে এবং লেবাননের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধের অজুহাতের ক্ষেত্র বানাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক মর্যাদা- সবকিছুর জন্য ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ তেলআবিবের অস্তিত্ব টিকে আছে ওয়াশিংটনের বদৌলতে। আর এই নির্ভরশীলতাই এখন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি বিরোধীদল নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে হটানো না গেলে ইসরাইলের বৈদেশিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আর সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহুর ভুল পদক্ষেপই ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে এককভাবে চুক্তি করতে বাধ্য করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ইসরাইল আজ তার ইতিহাসের অন্যতম জটিল কূটনৈতিক সংকটের মুখে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মনোভাব, মার্কিন জনমতের পরিবর্তন এবং ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি— এই তিনটি বিষয় ইসরাইলের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এসএইচ