পাল্টাপাল্টি হামলা পর অবশেষে সংঘাত বন্ধে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান | ছবি: সংগৃহীত
0

পাল্টাপাল্টি হামলায় তিনদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে সংঘাত বন্ধে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সমঝোতার পরও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান বিরোধ মেটাতে মঙ্গলবার কাতারে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতা অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে সব হুমকি সরে গেলে হরমুজ প্রণালি আগের মতো সচল হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ধৈর্য চিরকাল থাকবে না’ বলে ইরানকে হুঁশিয়ারি করেছেন জাতিসংঘ নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ।

যুদ্ধ শেষ হয়েও, যেন হচ্ছে না শেষ। সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর চূড়ান্ত শান্তির লক্ষ্যে ৬০দিনে রোডম্যাপ তৈরি পরও; হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বিরোধ তুঙ্গে। অবশেষে দুদিনের হামলা পাল্টা হামলার পর; সংঘাত বন্ধে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান বিরোধ মেটাতে মঙ্গলবার কাতারের দোহায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সূত্রের বরাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে ইরান ছাড়া অন্য দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির। বিষয়টি সমঝোতা চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সে অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিন প্রণালিটির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং সব বাধা দূর হলেই নৌ-পথ আগের মতো পুরোপুরি সচল হবে। ইরাক সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক অনুসারে, ইরানের ওপর থেকে সব বাধাগুলো দূর হয়েছে নিশ্চিতের ভিত্তিতে ৩০ দিন পর হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের আগের অবস্থানে ফিরতে। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে এটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে। হরমুজ ইস্যুতে অন্য কোনো সংস্থা বা দেশের কোনো দায়িত্ব নেই।’

আরও পড়ুন:

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য নিয়ে খেলা না করতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ধৈর্য চিরকাল থাকবে না। ইরানের হাতে যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। কিন্তু তাদের এও বুঝতে হবে যে, দিন দিন দর কষাকষির ক্ষমতা তাদের কমে আসছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলো হরমুজ প্রণালীর সব ধরনের বিকল্প তৈরি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তার সম্প্রসারিত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করছে। সৌদি আরবও তার সম্প্রসারিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করছে। আমরা সেখানে আমাদের ঘাঁটি স্থাপনের বিকল্প তৈরি করব। আমরা কিছু ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করব। কিছু হয়তো ভূগর্ভে চলে যাবে।’

স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার মধ্যে শত্রুপক্ষের যে কোনো প্রতারাণামূলক পদক্ষেপের কঠোর জাবাব দেয়া হবে বলে সাবধান করেছে আইআরজিসি। এছাড়া মার্কিন মিত্র বাহরাইনকে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকতেও হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি বলেন, ‘আমরা শুরু যেমনটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম তাই হচ্ছে। শত্রুপক্ষ প্রতারক এবং প্রতিশ্রুতি ভাঙছে। আলোচনার মধ্যেও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এমনটা আরও হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেয়া হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করে ইরানে টানা দু'দিন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কেশম এবং সিরিক বন্দর সহ ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি মেনে না চললে ইরানের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হুমকিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালায় তেহরানও। এতে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা ৮ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের দাবিও করছে আইআরজিসি।


এফএস