গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। বর্তমানে নেতানিয়াহু একদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জনচাপ এবং অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যে আটকা পড়েছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা অনুযায়ী লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাসেনবার্গ আল জাজিরাকে জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা ইসরাইলিরা ভালো চোখে দেখেনি। ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, লেবানন ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে সঠিক কৌশল বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে হামলার জন্য ওয়াশিংটনের অনুমতির প্রয়োজন হওয়াটা অকল্পনীয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইল ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি ২০১৯ সাল থেকে চলে আসা একাধিক দুর্নীতির মামলায় যদি নেতানিয়াহু দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে কারাগারেও যেতে হতে পারে।
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘আমিই সব সিদ্ধান্ত দিই, সে নয়।’ ট্রাম্পের প্রথম ১৩ মাসে সাতবার দেখা হলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি। নির্বাচনের আগে মার্কিন সমর্থন ফিরে পাওয়া এবং নিজের ক্ষমতা রক্ষা করাই এখন নেতানিয়াহুর জন্য প্রধান লড়াই।





