সামরিক চাপে মাথা নত করবে না তেহরান, হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান | ছবি: সংগৃহীত
0

আঞ্চলিক চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশকে বর্তমানের ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন পরিস্থিতি থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থমকে থাকা আলোচনা সচল করার প্রচেষ্টার মধ্যেই বুধবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা বরাত দিয়ে আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই যুদ্ধ বা শান্তি—কোনোটিই নেই এমন অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। যুদ্ধ নিশ্চিতভাবেই দেশের স্বার্থে নয়; কিন্তু তারা যদি আমাদের মর্যাদা, ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে চায়, তবে আমরা আত্মসমর্পণ করবো না।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধ ও সংকটের সময় দেশ পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক চাপ বা হুমকির মুখে ইরানকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের আত্মসমর্পণ কেবল তাদের স্বপ্নেই দেখবে।’ সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানি কমান্ডারদের হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে উস্কানি দিচ্ছে। তবে বর্তমান আঞ্চলিক কূটনীতি সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সহায়তা করছে বলে তিনি মনে করেন।

ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞার কবলে আছি, আমাদের বাণিজ্যিক পথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সামনে একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও সংকটের মধ্যে দেশ চালানো মোটেও সহজ কাজ নয়।’

পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সাইটে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অঞ্চলের ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের চক্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এএম