পারমাণবিক অস্ত্র থাকা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরাইলকে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলই একমাত্র দেশ, যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার ধারণা রয়েছে। সিপরির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বে মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ হাজার ১৮৭টি। এর মধ্যে সামরিক মজুতে রাখা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫টি ওয়ারহেড। এসবের মধ্যে ৪ হাজার ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও উড়োজাহাজে মোতায়েন রয়েছে। বাকিগুলো কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় মোতায়েন থাকা ওয়ারহেডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০০টি।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র
সিপরির তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ সামরিক প্রস্তুতিতে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে মোতায়েন ছিল প্রায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০টি ওয়ারহেড। এর প্রায় সবই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বিশ্বের সামরিক মজুতে থাকা পারমাণবিক ওয়ারহেডের প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট ওয়ারহেডের প্রায় ৮৬ শতাংশ এই দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় সব অংশ আধুনিকায়নের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ারহেড, অস্ত্র বহনকারী ব্যবস্থা এবং উৎপাদন অবকাঠামো। সিপরি বলছে, বিশ্বে মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা কমলেও এর মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবসরপ্রাপ্ত অস্ত্র ধ্বংস করা। তবে ব্যবহারযোগ্য ও মোতায়েন থাকা ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালে বেশির ভাগ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
হিরোশিমা-নাগাসাকির পরও পারমাণবিক হুমকি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই অস্ত্রের ভয়াবহতা দেখা যায়। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ নামের প্রায় ১৩ কিলোটনের পারমাণবিক বোমা ফেলে। ওই বছরের শেষ নাগাদ বিস্ফোরণে শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ ধ্বংস হয় এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের দ্বিতীয় বোমা ফেলা হয়। এতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হয়। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট সম্রাট হিরোহিতোর মাধ্যমে জাপান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। জাপানি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দুটি হামলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে তেজস্ক্রিয়তার কারণে ক্যানসার, শারীরিক জটিলতা, প্রতিবন্ধকতা ও মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়।
বিশ্বজুড়ে দুই হাজারের বেশি পারমাণবিক পরীক্ষা
১৯৪৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে দুই হাজারের বেশি পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়। ১৯৯৬ সালে গৃহীত ব্যাপক পরিসরে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি (সিটিবিটি) অনুযায়ী, বেসামরিক ও সামরিক—সব ক্ষেত্রেই পারমাণবিক বিস্ফোরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩২টি পরীক্ষা চালায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ৭১৫টি এবং যুক্তরাজ্য ১৯৫২ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে ৪৫টি পরীক্ষা চালায়। ফ্রান্স ২১০টি এবং চীন ৪৫টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিরোধ
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনা এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের বিরোধের অন্যতম বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়া যাবে না। ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা তাদের লক্ষ্য নয়।





