‘যুদ্ধ শেষ’, কিন্তু আলোচনা নিয়ে কাটছে না জটিলতা; মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে রুবিও

মার্কো রুবিও
মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
0

শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে এবং জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টারে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরান কুয়েতে দুটি এবং বাহরাইনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যার সবকটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথবা মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, কেশম দ্বীপে তাদের হামলায় ইরানের একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা তিনটি ইরানি ড্রোনও গুলি করে নামিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।’

এর আগে সেন্টকম জানায়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ইরানের দিকে যাওয়া একটি খালি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে তারা অচল করে দিয়েছে। বোতসোয়ানার পতাকাবাহী ওই জাহাজের ক্রুরা বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে সেটির ইঞ্জিন রুমে ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই অবরোধের আওতায় এখন পর্যন্ত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল এবং ১২২টির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে তার সমালোচকদের ‘আরাম করে বসার’ পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ইরান সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির খসড়ায় কিছু সংশোধনী চেয়েছেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি ও ইরান থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে ওয়াশিংটন ক্রমাগত তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে এবং সাংঘর্ষিক দাবি তুলছে।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে জনসমক্ষে হাজিন হন। শুনানিতে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিনিময়ে ইরানকে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রস্তাব দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড় হবে শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ যে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল, তার সমাধানের বিনিময়েই কেবল ছাড় মিলতে পারে।’ কমিটির শুনানিতে এক সেনেটরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।’

এএম