চব্বিশ টানতে গিয়ে একাত্তর টানতে হবে কেন?—প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ
2

‘চব্বিশ (২০২৪) টানতে গিয়ে একাত্তর (১৯৭১) টানতে হবে কেন?’— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘চব্বিশ থাকবে চব্বিশের মর্যাদায়, একাত্তর থাকবে তার মর্যাদায়। চব্বিশ হারিয়ে যেতে দেবো না আমরা। চব্বিশের বীরদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে। সে শহিদ কিংবা গাজী হোক, চব্বিশ নিয়ে কোনো অবহেলা জাতি বরদাশত করবে না।’

আজ (শনিবার, ১৮ জুলাই) বিকেলে হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে ১১ দলের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে জনগণ প্রায় ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে, ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। গণভোটকে ব্যর্থ করে দিলে আপনাদের ব্যর্থ করে দেয়া হবে। গণভোট মানতে জনগণ বাধ্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘ধোকার পথে পা বাড়াবেন না। আমাদের সাফ কথা গণভোটের গণরায় মানতেই হবে। যারা গণভোটের ভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র মানে না, এরা গণতন্ত্রের শত্রু। আমরা চাই ফিরে আসুন, জনগণের রায়ের প্রতি আপনার সম্মান করুন। বৈষম্যের জন্য জুলাই হয়নি, বৈষম্যের কবর রচনার জন্য জুলাই হয়েছিলো। সময় থাকতে সচেতন হন, মানুষের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষ জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। মামলায় জেলে গিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে; কিন্তু ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন না। যেসব ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিলো, বিএনপি তার সবগুলো রেখে দিয়েছে। এটি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কিছু নেই, এটি অবৈধ। কোনো ভাঁওতাবাজি করলে জাতি তাদের ছেড়ে কথা বলবে না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদে সংবিধান সংশোধন করার জন্য গঠিত কমিটিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। তারা এই কমিটিকে এখন বিশেষ কমিটি বলছেন। জনগণের সঙ্গে আর কত ছলচাতুরি, ধোঁকাবাজি করবে সরকার?’

চব্বিশের ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে উঠা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে কোনো পরিবর্তন করা হলে আমরা আবার গর্জন করবো। আমরা চুপ থাকবো না তার প্রতিবাদ করবো। ঐতিহ্য গায়েব করা হয়ে থাকলে-তার ষোলো আনা আদায় করে ছাড়বো। জুলাইকে ধামাচাপা দিতে কত কসরত!’

সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গণভোটের রায় যদি মেনে না নেন, তাহলে ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জনগণ প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হবে। আশা করি, এর আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণভোটের রায় মেনে নেবে।’

এসএইচ