সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে ইরান

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়ে এসেছে। সপ্তাহান্তে ইসরাইলসহ অঞ্চলের অন্যান্য মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এই তথ্য জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আজ (রোববার, ২৪ মে) সতর্কতার কথা শুনিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তা এখনো চূড়ান্ত নয়।’ তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভালো খবর আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্লিনকেন জানান, এই আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে, আর তা হলো—বিশ্বকে আর কখনো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়ে থাকতে হবে না।

আঞ্চলিক দুজন কর্মকর্তার সূত্র ধরে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে ইরান এবং তেহরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত একজন কর্মকর্তা জানান, ইরান কীভাবে এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করবে, তা আগামী ৬০ দিনের পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারিত হবে। মজুতের একটি অংশ হয়তো তরলীকৃত (ডাইলুট) করা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে—সম্ভবত রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির খুব কাছাকাছি।

আরও পড়ুন:

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহারের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। এছাড়া ইরানকে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আওতায় তেল বিক্রির অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের আটকে থাকা তহবিল মুক্ত করার বিষয়টি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করা হবে। এই খসড়া চুক্তিতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ অবসান এবং অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহকে এখনো বড় হুমকি মনে করছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে লেবাননসহ যেকোনো অঙ্গন থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইল তার স্বাধীন পদক্ষেপ বজায় রাখবে। নেতানিয়াহু আরও শর্ত দিয়েছেন যে ইরানকে তার পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় ট্রাম্প কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করবেন না।

এএম