ব্রিটেনের ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের সঙ্গে তুলনীয় এই গণভোট নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে চরম উদ্বেগ ছিল। কারণ, এই প্রস্তাব পাস হলে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউর সঙ্গে শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের চুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি ছিল। ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টির (এসভিপি) প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ২০৫০ সালের আগে জনসংখ্যা এক কোটি ছাড়াতে পারবে না এবং যদি তা দুই বছর এক কোটির ওপর থাকে, তবে ইইউর সঙ্গে চলাচলের চুক্তি বাতিল করতে হবে।
জিএফএস বার্ন পোলিং ফার্মের উরস বিয়ারি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও মানুষ এই পরিকল্পনায় আশ্বস্ত হতে পারেনি। তারা ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক, শ্রমবাজার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একটি ছোট দেশের জন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে ভোটাররা মনে করেছেন।’
সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা বর্তমানে ৯১ লাখ, যা আশপাশের ইইউ দেশগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশই বিদেশি। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৪০ সালের শুরুতেই জনসংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছাবে। এসভিপি সভাপতি মার্সেল ডেটলিং জানিয়েছেন, গ্রাম এলাকায় এই উদ্যোগ জনপ্রিয় হলেও শহরের ভোটারদের কারণে তা বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি সমস্যারও সমাধান হয়নি। আমরা যৌক্তিক অভিবাসনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখবো।’ প্রাথমিক হিসাবে এবারের গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক গড় ৪৮ শতাংশের চেয়ে বেশি।
ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে। হোটেলরিসুইস-এর সভাপতি মার্টিন ভন মুস বলেন, ‘উদ্যোগটি বাতিল হওয়ায় এটি একটি উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত সুইজারল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।’ বিরোধীরা এই পরিকল্পনাকে ‘বিশৃঙ্খলার রেসিপি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইউরোপের মধ্যে সুইস পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন, তখন ব্রাসেলসের সঙ্গে সংঘাত কতটা যৌক্তিক হবে। ‘না’ প্রচারণায় ট্রাম্পের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপানো হয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল: ‘এমন একটা সময়ে ইউরোপের সঙ্গে বিচ্ছেদ?’
থিংক-ট্যাঙ্ক অ্যাভেনিয়ার সু্ইস-এর অভিবাসন বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক লেইসিবাখ জানান, অর্থনৈতিক যুক্তিগুলো এখানে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মানুষ ব্যক্তিগত কল্যাণের কথা ভেবেছেন, যেমন—রেস্তোরাঁয় কে তাদের সেবা দেবে বা বৃদ্ধ বয়সে কে তাদের দেখাশোনা করবে।





