গতকাল (মঙ্গলবার, ১৯ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে যে টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে, তার কারণেই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাতে হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক শান্তনু মুখার্জি বলেন, জ্বালানি বাজারের ওপর যে আঘাত দিয়ে এই সংকটের শুরু হয়েছিল, তা এখন বিশ্বজুড়ে এক অনিশ্চিত সরবরাহ সংকটে রূপ নিয়েছে।
শান্তনু মুখার্জি আরও জানান, তাদের এই পূর্বাভাস তেলের দাম বছরের শেষার্ধে কমে আসার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। করোনা মহামারি এবং ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর এটিই হবে এই শতাব্দীর অন্যতম বাজে পারফরম্যান্স।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের মতে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিও শূন্য দশমিক ৪ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। তবে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যথাক্রমে ২ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করেছিল।




