বৈঠকের শুরুতে পুতিন রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ‘শক্তিশালী ও ইতিবাচক’ সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল বাহ্যিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে চলছে।’ জবাবে শি জিনপিংও দুই দেশের অটুট সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শি বলেন, ‘নানা চড়াই-উতরাই ও পরীক্ষার মধ্যেও আমাদের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও গভীর হয়েছে।’
এই বৈঠকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। শি জিনপিং তার রুশ সমকক্ষকে বলেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই উচিত নয় এবং একটি যুদ্ধবিরতি এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এখন সময়ের দাবি। শত্রুতা চালিয়ে যাওয়া একেবারেই কাম্য নয় এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা বিশেষ জরুরি।’
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই সফর ট্রাম্পের সফরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন-রাশিয়া বন্ধুত্বের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুতিনকে সঙ্গ দিচ্ছেন রাশিয়ার এক বিশাল ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিদল। ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই দেশ অর্থনীতি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৪০টি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। তবে পুতিনের মূল লক্ষ্য থাকবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প বাজার হিসেবে বেইজিং এখন মস্কোর জন্য অপরিহার্য।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীন একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষাসহ ‘কোর ইন্টারেস্ট’ বা মূল স্বার্থের বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মস্কো ও বেইজিংয়ের এই ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে স্থিতিশীল ভূমিকা পালন করছে।’ পুতিন আরও বলেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে জোট করছি না, বরং বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করছি।’




