ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানান, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি বিল তৈরি করা হচ্ছে। এই বিল পাস হলে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যাকারী ব্যক্তি বা সংস্থাকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ডলার) পুরস্কার দেয়া হবে।
ইব্রাহিম আজিজির মতে, খামেনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’র লক্ষ্যবস্তু করা জরুরি।
আরও পড়ুন:
পার্লামেন্টের আরেক সদস্য মাহমুদ নব্যিয়ানও নিশ্চিত করেছেন যে, যারা ‘ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে নরকে পাঠাবে’ তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে শিগগিরই ভোট গ্রহণ করা হবে। এর আগে ইরান সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল, ‘কিল ট্রাম্প’ নামক একটি প্রচারণার জন্য দেশটির সরকার ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি ইরানের সাইবার গ্রুপ ‘হানদালা’ও এই দুই নেতাকে হত্যার জন্য একই পরিমাণ অর্থ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির চরম অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে তিনি দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার’ কঠোর নির্দেশ দেবেন।
একদিকে ইরান যখন পুরস্কারের এই পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে তারা ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস মনে করছে, তেহরানের আগের অবস্থানের তুলনায় এই প্রস্তাবে বিশেষ কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘শান্তি আলোচনায় আমরা আসলে খুব একটা অগ্রগতি করতে পারছি না। পরিস্থিতি এখন বেশ গুরুতর।’




