শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে তাইওয়ানকে সতর্ক করলো ট্রাম্প

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক | ছবি: সংগৃহীত
0

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদল করলেন ট্রাম্প। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে তাইওয়ানকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেছেন, তিনি চান না তাইওয়ান স্বাধীনতা দাবি করুক। এমনকি তাইপেকে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না ট্রাম্প। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও, এর অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখবে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে, ওয়াশিংটন থেকে অস্ত্র আমদানির বিষয়ে আইনি জটিলতা নেই বলে দাবি তাইপের।

এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে চীনপন্থি সুর। তাইওয়ান ইস্যুতে বিরোধিতার বদলে বেইজিং-এর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই বার্তা দিলেন ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী তাইপের সাথে আদর্শগত বিরোধ শুরু ওয়াশিংটনের।

পৃথিবীর শীর্ষ দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা তাইওয়ান। চীন এই দ্বীপটিকে একদিকে যেমন নিজেদের অংশ দাবি করে, অন্যদিকে, তৃতীয় কোনো পক্ষ এই ইস্যুতে মাথা ঘামাক এমনটা চায় না বেইজিং। তাই, প্রায় এক দশক পর ট্রাম্পের চীন সফরের মধ্যেও এই একই সুর ছিল শি জিনপিং-এর বক্তব্যে।

কিছু বাণিজ্য চুক্তি বাদ দিলে বড় ধরণের কোনো সাফল্য ছাড়াই শেষ হয়েছে ট্রাম্পের ২ দিনের চীন সফর। এরপর ফক্স নিউজকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেখানেই চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়ে তাইওয়ানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘না কিছুই বদলায়নি। আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা দাবি করুক। জানেনই তো, যুদ্ধ করার জন্য ৯ হাজার মাইল পাড়ি দিতে হয় এমন কিছু চাই না।’

আরও পড়ুন:

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর নিরাপত্তার প্রশ্নে তাইওয়ানের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত হওয়া উচিৎ নাকি আতঙ্কিত-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা যেভাবে ছিলেন তেমনই থাকতে পারেন।

গেল বছরের শেষে তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একে একেবারেই ভালো চোখে দেখেনি বেইজিং। চীন সফরের পর সুর পাল্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে এবং অস্ত্রবিক্রি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তার।

দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও, তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তাদের। বিপরীতে বেইজিং-এর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-কে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মনে করে বেইজিং। ফলে ট্রাম্প-লাই চিং আলোচনা কোনোভাবেই ভালোভাবে নেবে না শি প্রশাসন।

এদিকে, ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্যের আসল অর্থ কী, তা তাইওয়ানকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। অস্ত্র কেনার আইনি বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গে চেনের বক্তব্য, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি মার্কিন আইনের অধীনে স্বীকৃত বিষয়।

স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি কোনো বিরোধিতা করছে না তাইওয়ান। যদিও প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেও বলেছেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ তাইওয়ানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে সরকার ও জনগণ।

এফএস