আজ (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের পর দুই নেতা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। যদিও ট্রাম্প এই সম্মেলনকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম সম্মেলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তবে তাইওয়ান প্রশ্নে শি জিনপিং ছিলেন আপসহীন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি ট্রাম্পকে বলেছেন যে তাইওয়ানই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু। এটি সঠিকভাবে সামলাতে ব্যর্থ হলে দুই দেশ সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসতে পারে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অভ্যন্তরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যখন নিম্নমুখী, ঠিক তখনই তিনি এক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিং সফর করছেন। এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়া সিইও জেনসেন হুয়াংসহ একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রয়েছেন। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য চীনের বাজার মার্কিন শিল্পের জন্য উন্মুক্ত করা এবং গত অক্টোবরে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বজায় রাখা।
অন্যদিকে, শি জিনপিংয়ের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ট্রাম্পের যথেচ্ছ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছে।
এর বিপরীতে চীনা অর্থনীতিতে কিছুটা মন্দা থাকলেও শি জিনপিংয়ের ওপর কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ নেই। বেইজিং এখন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প চাইছেন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চীন যেন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। তবে বেইজিং খুব সহজে সেই দাবি মানবে বলে মনে হয় না। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে দেখে। এর বদলে চীন সম্ভবত তাইওয়ানে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটি বাতিলের জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে।





