ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তে বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলা

বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড়
বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় | ছবি: এপি
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যখন চূড়ান্ত আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আজ (রোববার, ১৪ জুন) এই হামলার পর বৈরুতের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এই হামলা এমন এক সময়ে হলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যা নিয়ে ইসরাইল সরকার আগে থেকেই অসন্তুষ্ট। আস্যোসিয়েট প্রেস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এদিন সকালে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছুড়েছে। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে যে ভবনটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি একটি পাঁচ তলা আবাসিক ভবন ছিল এবং এর নিচতলায় দোকানপাট ছিল। হামলায় ভবনটির নিচের দুটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। গত কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্তির পর যারা ঘরে ফিরেছিলেন, তাদের আবারও এলাকা ছেড়ে পালাতে দেখা গেছে।

এই হামলাটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। ইরান চায় যেকোনো চুক্তিতে লেবানন যুদ্ধের অবসান এবং তাদের আটকে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকুক। কিন্তু পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের নেতৃত্বে চলা এই আলোচনায় ইসরাইলকে সাইডলাইনে রাখা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি সইয়ের আগে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ দিলেও প্রধানমন্ত্রী তা উপেক্ষা করেছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সতর্ক করে বলেছেন, বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলি হামলা প্রমাণ করে যে ‘আমেরিকার হয় তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সদিচ্ছা নেই, নতুবা সেই ক্ষমতা নেই।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই হামলা আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়কে বিপন্ন করতে পারে।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আজ (রোববার, ১৪ জুন) চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে তেহরানে পৌঁছেছেন। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঠেকানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল (শনিবার, ১৩ জুন) জানিয়েছিলেন যে, আজ রোববার, ১৪ জুনই চুক্তিটি সই হতে পারে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছাড়াই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই চুক্তি সই হবে।

তবে পরমাণু কর্মসূচি বা আটকে থাকা সম্পদের মতো জটিল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে এখনই সমাধান হচ্ছে না। পরবর্তী ৬০ দিনের কারিগরি আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে মাত্র। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, পরিস্থিতি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘ধ্বংস’ করবে। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ।

এএম