জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল নেই। এমনকি কোনো জরুরি মজুতও অবশিষ্ট নেই।’ তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি দেশীয় অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করে চলছে। গত দুই বছরে কিউবা ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলেও জ্বালানি সংকটে গ্রিড অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় সেই সক্ষমতার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
কিউবার এই সংকটের মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ। এর পাশাপাশি ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিউবার জন্য জ্বালানি আমদানি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময়ের প্রধান সরবরাহকারী দেশ মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলাও এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ভয়ে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়ার একটি বড় ট্যাঙ্কার তেল নিয়ে কিউবায় পৌঁছেছিল, যা এপ্রিল মাসে সামান্য স্বস্তি দিয়েছিল।
টানা চার মাস ধরে চলা এই অবরোধে কিউবার ১ কোটি মানুষের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকটে মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ট্রাম্পের এই জ্বালানি অবরোধকে ‘বেআইনি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই অবরোধ কিউবার মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক অধিকারগুলোকে খর্ব করছে।





