ইরান যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: আল জাজিরার বিশ্লেষণ

তেহরানের একটি রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন ইরানি
তেহরানের একটি রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন ইরানি | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানকে লক্ষ্য করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত মার্কিন পিছু হটা হতে পারে—এমন মূল্যায়ন করছেন একাধিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, আর্থিক, সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের বিচারে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা ওয়াশিংটনের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুদ্ধ শুরুর সময় ধারণা করা হয়েছিল, সমন্বিত মার্কিন–ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং পারমাণবিক অবকাঠামোকে দুর্বল করে তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে ফেলা যাবে। এরপর একটি অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু দুই মাস পরও তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙার বদলে আরও সংহত হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐক্য জোরদার হয়েছে। বাহ্যিক হামলার মুখে জনগণের একটি অংশও সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেনি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। সংঘাত তীব্র হলে তেল, গ্যাস ও লবণাক্ত পানি শোধনাগার অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যয়–সুবিধার হিসাব বদলে গেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এছাড়া মার্কিন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বিশ্লেষকের দাবি, সীমিত পরিসরে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আনুষ্ঠানিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত পূর্বাবস্থার কাছাকাছি কোনো সমঝোতায় গিয়ে থামতে পারে। সে ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সীমিত হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মতো মূল ইস্যুগুলো অমীমাংসিতই থেকে যেতে পারে।

তবে এই মূল্যায়ন একধরনের বিশ্লেষণভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি—এ কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

এএম