ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির দিক থেকে ধোঁয়া উঠছে
আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির দিক থেকে ধোঁয়া উঠছে | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান ও তার মিত্রদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এসব ঘাঁটির বেশ কিছু অংশ বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এই স্থাপনাগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। একজন কংগ্রেসনাল সহকারী জানান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। কোনো কোনো স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। আবার কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় অনেক অবকাঠামো সংস্কার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তেহরানের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান খুব সুচিন্তিতভাবে সবচেয়ে দামি এবং সীমিত সংস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ধাক্কা।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কমট্রোলার জুলস হার্স্ট গত বুধবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামত করতেই প্রায় ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়া ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’ (এইআই)-এর এক মূল্যায়ন থেকে জানা গেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি, কাতারের আল উদাইদ বিমান ঘাঁটির রানওয়ে এবং উত্তর ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটির গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্রেও সফল হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

এএম