যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘পারসিয়ান গালফ্ স্ট্রেইট অথোরিটি’ নামে ইরানের এ সংস্থাটি কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায় করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ইরানি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, দেশটি অর্থসংকটে পড়েছে এবং শাসনব্যবস্থা নগদ টাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা এই ফি পরিশোধ করবে তারাও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সহায়তা বা সেবা গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে।
ট্রেজারি বা অর্থবিভাগ দাবি করেছে, ইরানকে অস্ত্র কর্মসূচি, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের জন্য অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত করতে তারা এখন পর্যন্ত ‘দশ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের ‘পারসিয়ান গালফ্ স্ট্রেইট অথোরিটি’ গত ২০ মে এক্সে এক পোস্টে জানায় যে তারা হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ নির্ধারণ করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এই মানচিত্রে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী দুই পাশে নির্দিষ্ট সীমারেখা দেখানো হয়, যা ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয় বাধ্যতামূলক দেখানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেছে। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চললেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও চালিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার বলেন, তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখবে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান সেখানে ‘নেভিগেশনাল সেবা’ বাবদ ফি আদায় করছে, এটিকে টোল হিসেবে আরোপ করা হচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর হামলা চালানোর পর যুদ্ধটি শুরু হয় এবং এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।





