আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের এ অনড় অবস্থান দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও জাহাজ জব্দ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। গত রোববার প্রথমবারের মতো একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সতর্কবার্তা দেয়ার পর হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে সেনারা জাহাজে নামছেন। ইরান এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ইরানও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। গত শনিবার প্রণালিটি আংশিক খোলার ঘোষণা এলেও ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের খবরের পর তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাম্প একে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরান বলছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না।
ইসলামাবাদে বৈঠকের তোড়জোড় ও ধোঁয়াশা
এদিকে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। অভিজাত ‘সেরেনা’ হোটেল খালি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রয়টার্সকে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ইরানকে এ বৈঠকে যোগ দেয়ানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
তবে মার্কিন প্রতিনিধিদলের যাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রতিনিধি দলটি রওনা হতে পারে। প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের থাকার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের বৈঠকে যোগ দেয়ার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’। প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’কে দায়ী করেছে।
বিশ্লেষকদের মত
তেহরানে অবস্থানরত বিবিসির চিফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লিস ডুসেট বলেন, ‘কূটনীতির একটি নিয়ম হলো—ব্যর্থতার দায় কেউ নিজের ঘাড়ে নিতে চায় না। জেডি ভ্যান্স যদি ইসলামাবাদে পৌঁছান, তবে ইরানের পক্ষে বৈঠকে না আসা কঠিন হবে। এখন পাকিস্তান দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’





