গত এক দশকে দেশের গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম খাতে নীরব বিপ্লব হয়েছে। সুলভ মূল্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। যা গ্রাম থেকে নগর জীবনকে করেছে সহজ, নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠেছে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উৎপাদন কারখানা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট টিভি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনসহ নানা পণ্য। একসময় এসব পণ্যের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও এখন স্থানীয়ভাবেই তৈরি হচ্ছে। ফলে কমছে উৎপাদন খরচ, বাড়ছে কর্মসংস্থান, আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।
গুণগতমান ও সাশ্রয়ী দামের কারণে বিশ্বজয় করেছে বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্য। ইউরোপসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় সৃষ্টি হয়েছে মেড ইন বাংলাদেশ ট্যাগযুক্ত এসব পণ্যের নতুন বাজার।
একজন ক্রেতা বলেন, ‘এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, না, উই ক্যান রিলাই অন দ্যাট। সো, আমি অবশ্যই এখন বলব যে যে কোনো ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে আমি চেষ্টা করব অবশ্যই আগে আমার দেশের প্রোডাক্ট ব্যবহার করা।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণায়ও গুরুত্ব দিতে হয়। জানান, সব গুণগত মান ঠিক রেখে বর্তমানে বেশ কিছু দেশীয় ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে।
ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের প্রোডাক্ট ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্লোবাল যে স্ট্যান্ডার্ডগুলো— সাসো, যা যা স্ট্যান্ডার্ডগুলো আছে, যেহেতু এক্সপোর্ট আমাদের করতেই হবে, সো বিভিন্ন কন্টিনেন্টের যে স্ট্যান্ডার্ড, সেটা আমরা ফলো করছি।’
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের কাছ থেকে রপ্তানি প্রণোদনা ও অন্যান্য নীতিসহায়তা পেলে পোশাক শিল্পের মতো দেশের ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিও বড় রপ্তানি খাত হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করেই পণ্য ডিজাইন করা হচ্ছে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এয়ারকন্ডিশনার বিভাগের প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান বলেন, ‘৫০টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছি। এর মধ্যে এয়ার কন্ডিশন, রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সাব-কন্টিনেন্টের ইন্ডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ আফ্রিকান বিভিন্ন দেশ।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাদাফ মাসুদ অর্নব বলেন, ‘টিভির সবচেয়ে বড় শত্রু মেইনলি হচ্ছে দুইটা— একটা হচ্ছে আর্দ্রতা, সেকেন্ড হচ্ছে বজ্রপাত। বাংলাদেশের হচ্ছে ক্লাইমেট এই দুইটাকে আমরা আরকি ফোকাস করে টিভির টেকনোলজিগুলো নিয়ে এসেছি।’
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে স্মার্ট প্রযুক্তি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যান্ড্রয়েড ও গুগলভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, ভয়েস কন্ট্রোল এবং স্মার্ট কানেক্টিভিটির মতো সুবিধা যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের দেশিয় পণ্যে।
দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবছর ২৫–৩০ লাখ ইউনিট ফ্রিজ বিক্রি হয়। গত বছর দেশে প্রায় ৬-৭ লাখ এসি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দেশে টিভির বাজার পৌনে ছয় হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে দেশে এসব পণ্যের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। সরকারও এ খাতে নীতিসহায়তা দিচ্ছে।





