নৌযান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি ও রয়টার্স বরাত দিয়ে ভারতীয় এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আক্রান্ত জাহাজ দুটির একটি হলো কার্গো জাহাজ ‘জেএজি অর্ণব’ এবং অন্যটি তেলবাহী বড় ট্যাংকার ‘সানমার হেরাল্ড’। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লারক দ্বীপ পার হওয়ার পর ইরানি গানবোটগুলো জাহাজ দুটিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জাহাজ দুটি তাৎক্ষণিক ইউ-টার্ন নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে ফিরে আসে। এই ঘটনায় কোনো ক্রু আহত হননি বলে জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ নৌ-নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটেছে। ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, ‘সানমার হেরাল্ড’ ট্যাংকারটি সম্ভবত ইরাক থেকে পূর্ণমাত্রায় জ্বালানি তেল নিয়ে ফিরছিল।
আরও পড়ুন:
ইরানের এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধারোপ করে দাবি করেন যে তারা তেহরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য অচল করে দিয়েছেন। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আজ (শনিবার, ১৮ এপ্রিল) বেতার বার্তায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘সামুদ্রিক ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম এই পথে ভারতের জাহাজে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে আরও জটিল করে তুললো। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




