যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। সংঘাত শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যা সংকটে ফেলেছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকে। হরমুজ প্রণালির দুই পাশে আটকা পড়েছে বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী শত শত জাহাজ।
তবে এবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর দিল ইরান। জানিয়েছে, প্রণালিটির ওমান-সংলগ্ন দিক দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলো অবাধে চলাচলের অনুমতি দেয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ এটি। তবে নতুন করে সংঘাত এড়াতে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পর এই ছাড় দেয়ার শর্ত দিয়েছে তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে ব্যাপক আকারে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা ওমান উপসাগর থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালির সংলগ্ন পূর্ব আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য ইরানের অর্থনীতির ৯০ শতাংশ এসব বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে প্রণালির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবরোধের মধ্যেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ওয়েবসাইট তথ্য থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া ও ইরানের জ্বালানি তেল কেনা বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সীমা আর বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, সমুদ্রে থাকা ইরানি ও রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য বলবৎ ছিল। যা চলতি সপ্তাহেই শেষ হবে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, তেহরান এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করুক এমনটাই প্রত্যাশা বেইজিংয়ের।
এদিকে, তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর আশা, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৩ ডলারে নেমে আসবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেক পূরণ করলেও জুন মাসে জেট ফুয়েলের সংকটে পড়বে ইউরোপ। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী জেট ফুয়েল ও কেরোসিনের গড় চাহিদা ছিল দৈনিক ৭৮ লাখ ব্যারেল।





