ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সিলিকন ভ্যালির টাইটান সের্গেই ব্রিন ও পিটার থিলরা যখন লাখ লাখ ডলার খরচ করছেন, তখন হুয়াংয়ের মতো কিছু অতিধনী মনে করেন, কর দেয়া হলো সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেয়ার একটি মাধ্যম। তিনি মজা করে বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে ১০১ নম্বর রুটের একটি গর্ত অন্তত মেরামত করা উচিত।’
আরেক ধনকুবের টম স্টেয়ারও নিজেকে ‘এমন একজন বিলিয়নেয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন, যিনি অন্য বিলিয়নেয়ারদের ওপর কর আরোপ করতে চান। তবে সবার অবস্থান এমন নয়। আবাসন খাতের বড় ব্যবসায়ী স্টিভেন রথ বা অর্থলগ্নিকারী কেন গ্রিফিনদের কাছে অতিধনীদের ওপর করের দাবি অনেকটা ‘ব্যক্তিগত অপমানের’ মতো। তারা মনে করেন, এটি তাদের নৈতিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সাধারণত দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫ জন ধনকুবের ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের বিশাল সম্পদের ওপর মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে ফেডারেল আয়কর দিয়েছেন। মার্ক জাকারবার্গ বা ইলন মাস্কের মতো অনেক সিইও মাত্র ১ ডলার বা তারও কম বেতন নেন। তাদের মূল সম্পদ আসে শেয়ার থেকে, যা আয়করের আওতায় পড়ে না। প্রোগ্রেসিভ স্টেট হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটন, ম্যাসাচুসেটস ও ক্যালিফোর্নিয়া এখন এই বৈষম্য দূর করতে চাচ্ছে।
তবে সম্পদ কর আদায় করা বা পরিচালনা করা বেশ জটিল। শিল্পকর্ম, রিয়েল এস্টেট বা জটিল ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। বোস্টন কলেজ ল স্কুলের অধ্যাপক রে ম্যাডফ বলেন, ‘আমরা এমন এক জগতে বাস করছি যেখানে বেতনভোগী মানুষদের ওপর করের বোঝা অনেক বেশি, কিন্তু অতিধনীরা একপ্রকার ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।’
বিরোধীদের যুক্তি হলো, উচ্চ আয়ের ১ শতাংশ মানুষই মোট আয়করের ৪০ শতাংশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ম্যাডফ মনে করেন, এটি একটি আইনি চাতুরী। কারণ, বিলিয়নেয়ারদের অধিকাংশ সম্পদই করযোগ্য আয়ের বাইরে থাকে। বর্তমান ব্যবস্থায় মূলধনী মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দেয়াও ঐচ্ছিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সালে ১২টি দেশে সম্পদ কর থাকলেও ২০২৪ সাল নাগাদ তা মাত্র তিনটি দেশে টিকে আছে। সুইডেন বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এই কর বাতিল করেছে, কারণ অতিধনীরা তাদের সম্পদ অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। ম্যাডফের মতে, অঙ্গরাজ্যগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকায় এখানে এই কর খুব একটা কার্যকর না-ও হতে পারে। এটি সবচেয়ে ভালোভাবে করা সম্ভব ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে।





