মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিবে। এদিকে নিয়ম মেনে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।
সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে আজ রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। এ শর্তে আমি ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ ও সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি।’
এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা এরইমধ্যে আমাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি, এবং তা অতিক্রমও করেছি। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ইরানের পক্ষ থেকে আমরা একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছি, যা আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতের বেশির ভাগ বিরোধপূর্ণ বিষয়েও ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এই দুই সপ্তাহের সময়কাল চুক্তিটিকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার সুযোগ করে দেবে বলে আমরা আশা করছি।
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।’
শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এ উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে।’





