চলতি বছরের ৫মাসে কুমিল্লায় এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন। এসময়ে ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এইচআইভি-এইডস এর রোগীদের সেবা দিচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের এআরটি সেন্টার। তাদের তথ্যমতে এই সেন্টারে বিভিন্ন জেলার ৬১৫জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক ছাড়াও পরীক্ষা ছাড়া রক্ত আদান-প্রদান, একই সিরিঞ্জ অনেকে ব্যবহার করায় এইচআইভি আক্রান্ত হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষায় ২৭৮ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ জন একই সঙ্গে যক্ষ্মা রোগেও আক্রান্ত।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা বলেন, ‘রোগী যেখান থেকেই আসুক, যদি আমাদের সেন্টারে একবার সে পৌঁছে যায়, তাহলে আমরা এখানে সম্পূর্ণ যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ফ্রি।’
আরও পড়ুন:
এইডস মানেই মৃত্যু নয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। এইডসের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করে সরকার।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টার ফোকাল পারসন ডা. জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত ওষুধ খেলে এবং লাইফ স্টাইলগুলো আমরা বলে দেবো, যে নিয়মগুলো বলে দেবো সেগুলো মেনে চললে রোগীরা পরিপূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে।’
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় বাধা লজ্জা এবং গোপনীয়তা। অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পরীক্ষা করাতে দেরি করেন। ফলে অজান্তেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ভীতি দূর করে চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এআরটি সেন্টারে কাজ করছেন কাউন্সিলররা।
কুমেক হাসপাতালের এইচটিসি-এআরটি সেন্টার কাউন্সিলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘রোগীরা এখানে আসলেই মূলত আমরা টেস্টের পূর্বে একটা প্রি-টেস্ট কাউন্সিলিং আছে এবং টেস্টের পরেও পোস্ট-টেস্ট কাউন্সিলিং আমরা করি, যদি পজিটিভ হয়। তখন দেখা যাচ্ছে অনেক পেশেন্ট আছে আপনার সুইসাইড করতে চায়। এখানে কাউন্সিলিং কিন্তু খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ।’
আগে রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা বেশি থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ যৌনবাহিত।





