ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের শীর্ষে বিশ্ব জ্বালানির বাজার। রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলের চালানে ছাড়- কোনো কিছুই সামাল দিতে পারছে না চলমান জ্বালানি সংকট।
দাম বাড়ার শঙ্কায় চীনের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো গ্যাসোলাইন ও ডিজেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা ছিলো, কাতারের রাস এলএনজি টার্মিনালে ইরানের হামলা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এবার জ্বালানি সংকটের জেরে আসন্ন পিএসএলে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
আরও পড়ুন:
হবে না কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ৬ ভেন্যুর পরিবর্তে শুধু লাহোর ও করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ। এছাড়াও, দর্শকশূন্য মাঠে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দর্শকেরা মাঠে বসে ম্যাচ উপভোগের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
ভারতেও তীব্র হচ্ছে এলপিজি সংকট। দেশটির বস্ত্রশিল্পের অন্যতম হাব হিসেবে পরিচিত সুরাটের কারখানাগুলো গ্যাসের তীব্র সংকট থাকায় বিষাক্ত কার্বন মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে। অনেক স্থানে সাময়িক বন্ধ উৎপাদন।
কারখানা মালিকদের একজন বলেন, ‘বয়লার ও মেশিন কাঠ দিয়ে চলছে; তবে অনেক যন্ত্র আছে যা শুধু গ্যাস দিয়েই চলে। এ কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আমরা বিকল্প উপায়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।’
গুজরাটের তেলের পাম্পগুলোতেও দেখা যায় দীর্ঘ লাইন।
এশিয়ার বাইরের জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামে স্থবির আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত। কমেছে উৎপাদন, বাড়ছে পণ্যের দাম
নাইজেরিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বাড়ায়, আমরা পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। এটি ভোক্তাদের ক্রয়সীমায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
অন্য আরেকজন বলেন, ‘ভোক্তারা আগের দামেই পণ্য কিনতে চাচ্ছে। তারা আমাদের কষ্ট বুঝছে না। পণ্যের দাম আমরা বাড়াইনি, কাঁচামালের দাম বেড়েছি। তাই আমরা বেশি অর্থ নিতে বাধ্য হচ্ছি।’
জ্বালানি সংকটে নাকাল থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সের জনজীবন। রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্লোভেনিয়া সরকার।





