ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সংঘাত: তেলের বাজারে চাপ, বিপাকে এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য

তেল পাম্প ও ভারতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ | ছবি: এখন টিভি
0

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসারাইলি হামলায় জেরে তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। এতে বেড়েই চলেছে জ্বালানির দাম। তেল সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজার।

ইরান যুদ্ধের ফলে ভয়ঙ্কর চাপে পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজার। দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল সঙ্কটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে সব দেশে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ নিচ্ছে নানা রকম পদক্ষেপ।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে গত সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারের সূচক ৮ শতাংশ পড়ে যায়, যার ফলে এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। এদিন, দেশে জ্বালানি তেলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে বলে জানায় দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। জানান, হরমুজ প্রণালী ছাড়া অন্য উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করবে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং বলেন, ‘পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা বলা খুবই কঠিন। তবে আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, অবস্থার গুরুত্ব বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য কঠোর জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে মিয়ানমার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জোড় সংখ্যার প্লেটযুক্ত গাড়িগুলো কেবল জোড় তারিখগুলোতে এবং বিজোড় সংখ্যার প্লেটযুক্ত গাড়িগুলো বিজোড় তারিখে চলতে পারবে। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল এ নিয়মের বাইরে থাকবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জ্বালানি মজুত না করতে সতর্ক করা হয়েছে।

ভারতে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। জ্বালানির তীব্র সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশটির সিরামিক ও টাইলস শিল্পে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্র মোরবি শহরের ৮০০ টাইলস কারখানার মালিকরা। এরই মধ্যে প্রোপেন গ্যাস ব্যবহারকারী অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু বন্ধ হওয়ার পথে।

আরও পড়ুন:

গত এক সপ্তাহে পাম্পে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রোম ও মাদ্রিদের চালকরা। তাদের আশঙ্কা সামনের সপ্তাহগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক থিনা মারগ্রেথ সাল্টভেড বলেছেন, অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজার। তিনি সতর্ক করেন, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হতে পারে জ্বালানি খাতের অবকাঠামো, যেমন—উৎপাদন কেন্দ্র, জাহাজ এবং পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি। এতে সংকট আরও দীর্ঘ হবে।

জ্বালানি বিশ্লেষক থিনা মারগ্রেথ সাল্টভেড বলেন, ‘যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহন বা রপ্তানি করা সম্ভব না হয়, তবে বাজারে যতটুকু তেল থাকবে তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। আর এ কারণেই তেলের দামের এই সমস্যা শুধু একটি অঞ্চলে র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পৃথিবীর সব অঞ্চলে এর প্রভাব পড়বে।’

হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তেল পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের জমানো তেলের মজুত ব্যবহারের কথা ভাবছে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।

এফএস