এ যেন এক মহাকালের সমাপ্তি। ১৯৮৯ সাল থেকে যার তর্জনীতে কুপোকাত হত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, সেই সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া ইরান ছাপিয়ে দেশে দেশে। ইসরাইলের হামলায় মারা গেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের মৃত্যু হয়েছে।
খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে চলমান মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরোধিতা জানিয়ে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। যুদ্ধবিরোধী নানা প্রতিবাদী স্লোগানে ফেটে পড়ে চারপাশ।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সংবাদে ইরাকের বাগাদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে ইরানপন্থিরা। এসময় তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এরপরই মার্কিন নাগরিকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়ে দূতাবাস।
বিক্ষোভে রণক্ষেত্র পাকিস্তানের করাচি। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শহরটির মার্কিন দূতাবাসের সামনে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। হতাহত হন বেশ কয়েকজন।
ক্ষোভ আর দ্রোহের আগুনে পুড়ছে ভারত। রোববার শ্রীনগরসহ ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসে খামেনিপন্থীরা। এসময় কালো পতাকা ও প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয় চারপাশ। এছাড়া, লক্ষ্ণৌয়ের রাস্তায় নেমে খামেনি হত্যার নিন্দা জানান শহরটির শিয়া মুসুল্লিরা।
আরও পড়ুন:
প্রতিবাদ জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের রাস্তায় নামে দেশটির নাগরিকরা। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেন ও দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান।
এছাড়া, খামেনির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্ব নেতারা। একে নিন্দনীয় হত্যাকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে সমবেদনা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও চীন। সংঘাত ভুলে শান্তির আহ্বান পোপ লিও চতুর্দশের কণ্ঠেও।
তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। খামেনির মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করেছে প্রবাসে থাকা ইরানের রাজতন্ত্রপন্থীরা। এ সময় তারা ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানান। নির্বাসিত যুবরাজ রাজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবিও উঠে আন্দোলনকারীদের মধ্যে।





