Recent event

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ইস্যুতে ইরান-ইসরাইল বিরোধ, মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধে রাজি না হলে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়— যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন আবদার করেছে ইসরাইল। এসব ইস্যুতে তেহরানকে রাজি করাতে না পারায় দফায় দফায় আলোচনা করেও চুক্তিতে পোঁছাতে পারছে না ওয়াশিংটন। কারণ নিজেদের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতাকে জলাঞ্জলি দেবে না বলে সাফ জানিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় যুদ্ধ শঙ্কার মধ্যেই আজ (সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান।

২০২৫ সালের ১৩ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই তেলআবিবের বুকে কাঁপন ধরায় তেহরান, ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও গবেষণাগার, ঘটে হতাহতের ঘটনাও। এতে অবাক হয় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। পরে ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা ফেলে মার্কিন সেনারা। তবে ১২ দিনের যুদ্ধেও ধ্বংস করতে পারেনি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা।

এ অবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে পারমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তোড়জোর শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আরোচনায় আরও বেশি বিষয় যুক্ত করে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধের দাবি। এসবকিছুই ইসরাইলের আবদার পূরণের জন্য এবং তেহরানের হুমকি থেকে তেলআবিবের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা বলে মনে করেন বিশ্লষকরা।

নেতানিয়াহু জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি আগেই বলে রেখেছেন যে, চুক্তিতে কেবল উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নিশ্চিত করলেই হবে না। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে সব পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংসসহ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বলেছিলাম যে, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হয়, তবে অবশ্যই বেশ কয়েকটি উপাদান থাকা উচিত। যা কেবল ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আর এর জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা উচিত। ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে।’

নেতানিয়াহুর এসব দাবি পূরণের চেষ্টায় আলোর মুখ দেখছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। কারণ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত ইরান। কিন্তু নিজেদের জ্বালানি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো আপোস করবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে চলছে টানটান উত্তেজনা। খামেনি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের ইঙ্গিত দিয়ে আব্রাহাম লিংকনের পর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে জেরাল্ড আর ফোর্ড নামে দ্বিতীয় রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ও ভয়াবহ অভিযানের জন্য সেনারা প্রস্তুত হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাব দেয়ার জন্য হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরানও।

যুদ্ধের শঙ্কা মাথায় নিয়েই ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে আলোচনার পর মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবরও আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

এসএইচ