একই দিনে পরপর দু'টি বিস্ফোরণ। ইরানের বন্দর আব্বাসে বহুতল ভবনের পর শনিবার ইরাকের সীমান্তবর্তী শহর আহবাজের আবাসিক ভবনেও বিস্ফোরণ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অবশ্য বলা হচ্ছে, দু'টি ভবনেই বিস্ফোরণের কারণ গ্যাস লিকেজ।
বিস্ফোরণের জেরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবে ইরানের নিরাপত্তা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশে বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ, এমন দাবি অস্বীকার করছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, গুজব ছড়ানোর জন্য এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। পরপর দু'টি বিস্ফোরণের পর ইসরাইলের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রয়টার্স। বিচ্ছিন্ন এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পৃক্ততা নেই বলে নিশ্চিত করেন তারা।
আরও পড়ুন:
এমন সময়ে এই বিস্ফোরণ, যখন পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
তবে খোলা আছে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথও। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে আঞ্চলিক মিত্র আরব আমিরাত, তুরস্ক ও সৌদি আরব।
তবে ইরানের সেনাপ্রধান বলছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র যোদ্ধারা। মার্কিন সামরিক অভিযানের হুমকি টলাতে পারেনি ইরানের সাধারণ জনগণকেও।
এদিকে, ডিসেম্বরের গণ-আন্দোলনের পর ও মার্কিন সামরিক হামলার হুমকির মধ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছরে জনসমক্ষে এসেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। শনিবার প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সমাধিস্থল পরিদর্শন ও বিশেষ দোয়া করেন তিনি। এসময় ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দেয়ার জন্য আবারও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
অন্যদিকে, চলমান এই উত্তেজনা নিরসনে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে বারবার দাবি করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে ইরান ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসন তার অবস্থান গালফ মিত্রদের কাছেও গোপন রেখেছে বলে মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।





