ক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে চলছে গুলি, তবু দমানো যাচ্ছে না বিক্ষোভ। ইরানের ইলম প্রদেশের মালেকশাহী শহরের দৃশ্য বলে দেয়, ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এই জনরোষ। ২০২২ সালে পুলিশি হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যুর পর এটাই ইরানের সবচেয়ে বড় গণ আন্দোলন।
ইরানের ৩১টি প্রদেশের ২৭টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ। ৮০টি শহরের দুই শতাধিক স্থানের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রাণ গেছে বহু মানুষের। লুটপাটের আশঙ্কায় বেশকটি প্রদেশে গেল ৩ দিন ধরে বন্ধ দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তেহরান, বোজনোর্দ, কাজভিন, ইসফাহান, বাবেলসহ বেশ কয়েকটি শহর থেকে আটক করা হয়েছে ১২শ বেশি আন্দোলনকারীকে।
আরও পড়ুন:
চলমান গণআন্দোলন নিয়ন্ত্রণে না আসলে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি চাঞ্চল্যকর এমন খবর প্রকাশের পর বিক্ষোভকারীদের দমাতে আরও বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে। উত্তাল এই জনরোষের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঝুঁকি নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগে তেহরান।
সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে আনার পর সোমবার মেক ইরান গ্রেট এগেইন লেখা একটি কালো টুপি হাতে ছবি তুলেছেন ট্রাম্প। এই ছবি নিয়ে তোলপাড় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ভেনেজুয়েলার পর ইরানের সরকার পরিবর্তনের দিকে নজর ট্রাম্পের- এমন আভাসও দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
ওয়াশিংটনের গতিবিধি নিয়ে মোটেও স্বস্তিতে নেই তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রদপ্তরের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বাইরে থেকে উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল।
ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জায়নিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও চরমপন্থি মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও অপ-তৎপরতা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও হত্যায় উসকানি দেয়ার সমান।’
দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক ছাড় দেয়ার কথা ভাবছে ইরানের সরকার। মূলত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশটিতে গণআন্দোলনের জোয়ার শুরু হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়েছে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত।
বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। মার্কিন সিনেটর, ব্রিটেনের পার্লামেন্ট মেম্বার থেকে অনেক হেভিওয়েট নেতা বার্তা দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে। সমালোচনা করছেন তাদের ওপর পুলিশি আগ্রাসনের। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা চান, পরবর্তীতে কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালানোর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।





