ভূমিকম্পের পর থমকে গেছে ব্যাংককের জীবনযাত্রা

বিদেশে এখন
0

ভূমিকম্পের পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে থমকে গেছে জীবনযাত্রা। সরকারি তথ্য বলছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি অবকাঠামো, যার বেশিরভাগই বহুতল ভবন। আবারো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

হলিউডের কোন সিনেমার মতোই শুক্রবারের (২৮ মার্চ) ভূমিকম্পে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সবার চোখের সামনেই ভেঙে পড়ে রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক বাজারের নির্মাণাধীন আকাশচুম্বী এই ৩০ তলা ভবন।

রাত পেরিয়ে ভোর-বিধ্বস্ত এই ভবনের সামনেই অশ্রুশিক্ত চোখে প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় স্বজনরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকা পড়ে আছেন অনেকে।

বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমি কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। এখনও বুঝতে পারছি না কি হয়ে গেল। আমার ভাগ্নি নিখোঁজ, জানি না আমরা তাকে খুঁজে পাবো কিনা। আশা করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই, আমরা শুধু বসে প্রার্থনা করছি।’

আরেকজন বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমি নিচতলায় কাজ করছিলাম। ভূমিকম্পে জিনিসপত্র কাঁপতে শুরু করে। আমার বাকি সহকর্মীরা ১৩ এবং ১৪ তলায় ছিলেন। উঁচু তলা থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাচ্ছিল। প্রচণ্ড ভয় হচ্ছিল, একে অপরকে পালিয়ে যেতে বলি। উঁচু তলার বাকিরা পালাতে পারেনি। সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।’

বাসিন্দাদের আরেকজন বলেন, ‘আমার অনেক সহকর্মী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছেন। এখানে মিয়ানমারের বহু শ্রমিকও ছিলেন। অপেক্ষা করছি, সহকর্মীদের জীবিত উদ্ধারের আশায়।’

এদিকে ভূমিকম্পে ব্যাংককে প্রায় ২ হাজার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংককের গভর্নর। জানান, নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবনটি ধসে পড়লেও ভবনের কাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিল না। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবে সরকার। থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া ভবনগুলোর বেশিরভাগই নির্মাণাধীন ছিল বলেও জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।

এদিকে ব্যাংককে যখন ভূমিকম্পে নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার কার্যক্রম ও স্বজনদের প্রার্থনা, ঠিক তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ব্যাংককের এক প্রসূতি মায়ের খবর। শুক্রবার ব্যাংককের কিং চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভূমিকম্পের সময় রোগীদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেয়ার সময় রাস্তাতেই সন্তানের জন্ম দেন এক মা ।

ইএ